গতবারের গল্প ছিল সুর নিয়ে, তারই Spirit এ তাই এবার থিম হোক ‘সুরা’!
তাই “বেয়ারা, চালাও ফোয়ারা”!
গল্পের। (Spirit এর না!)

স্থান বেঙ্গালুরু। সময় ২০০৭।

এবারের গল্পের সময় কাল একটু পরের দিকের।, চাকরি জীবনের শুরুর দিকের। কলেজ পাশ করে, অচিরেই “বাবার হোটেল” ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম কর্মসূত্রে অন্য শহরে।

আমাদের চোখে সে এক শহর যেখানে স্বাধীনতার কোনো বাঁধ ছিলোনা – যেমন চায় থাকো, যেমন চাও খাও, যেমন চাও ঘোরো।
দিনের শেষে কেউ বকা দেবেনা – এতো দেরি হলো কেন?

এই বাঁধন ছাড়া সময়ের এক দুর্গা পূজার গল্প আজ। সেই প্রথম দুর্গাপূজা যখন আমি কলকাতায় নেই। অফিস থেকে ছুটি পাওয়া যায়নি এই “দুর্ভাগা” বাঙালির। মন বেশ ভারাক্রান্ত।

কোরামাঙ্গালার “কল্যাণ মন্টপা”র দুর্গা পূজা নিয়ে বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট ছিল না। তবু গেছিলাম।
প্যান্ডেল আর লাগোয়া জায়গা ঘেষে অনেক বাঙালি খাবারের দোকান।
আধঘন্টা থেকেই মনের ভেতরটা কিরকম কচলানো লেবুর মতো হয়ে গেল। সব আনন্দ শেষ। অতএব আশ্রয় এক এবং অদ্বিতীয়ম সুরা পাত্রে।

কিন্তু এত কিছু কেন বলছি? কারণ গল্পের নামকরণের সার্থকতা বিচার করতে হবে তো নাকি!

পরদিন সপ্তমী। কিন্তু আমার “পৈতিক ফ্যাক্টরি”তে বিশাল শ্রমিক বিদ্রহ শুরু হলো।
মানে সেই আসা আর যাওয়া, বাথরুমে। সঙ্গে বেজায় পেট ব্যাথা।
মনে হচ্ছিল জীবনের শেষ মুহূর্ত এসে গেছে এবং এই আসা-যাওয়ার মাঝেই শেষ হবে।

পিতৃদেব ডাক্তার। তাই নিজের ওই ২৩ বসন্তের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু হাফ ডাক্তারি ফলিয়ে ওষুধও খেলাম।
তাতে অবস্থা আরও শোচনীয় হলো। ব্যাথা বাড়লো বই কমলো না।
এর মাঝে আমার পিতৃদেবের সাথে ফোনে কুশল বিনিময় হয়েছে।
আগ বাড়িয়ে প্রতিকূল সিটুয়াশন সমন্ধে কিছু বলিনি।

কিন্তু চব্বিশ ঘন্টার শেষে আর থাকা গেলনা – তাই স্বীকারোক্তি ঘটলো।
পরের কথোপকথন তুলে ধরলাম যেমন ঘটেছিল।

“অ”কমল মিত্র-রুপী আমার বাবা।
“মধ্যম” কুমার-রুপী আমি।

“অ”কমল মিত্র: তো জানতে চাইছি কি ছাইপাশ খেয়েছিলে যে এরকম ডিজাস্টার ঘটলো?
“মধ্যম” কুমার: আজ্ঞে, বেশি কিছু না। একটু steak আর… আর… আর কিছু না।

“অ”কমল মিত্র: ওহ! সাহেবদের মতো steak খেতে পারো যখন, তখন একটু সহ্য করতে শেখো।
ওষুধ খেয়েছ যখন সময় দাও,ঠিক হয়ে যাবে। তো খালি steak ই খেয়েছ নাকি অন্য কিছু সঙ্গে ছিল!?
“মধ্যম” কুমার: (সত্যি কথা বলতে হলে অনেক কথা শুনতে হবে। তাই) আর কিছুই খাইনি।

“অ”কমল মিত্র: বেশ। ফোন রাখছি। যদি তরল পদার্থ কিছু খেয়ে থাকো, আশা করবো মেট্রোজিল খাবে না।

ফোন রেখে দেয়ার পরে আমি ভাবলাম মেট্রোজিল ই তো খেয়েছি।
তার মানে কি এই অবস্থা ওই ওষুধ সঙ্গে সূরার সাইড এফেক্ট?
সঙ্গে সঙ্গে ফোন আবার চলে গেল “অ”কমল মিত্রর কাছে।

“অ”কমল মিত্র: কি হলো আবার?
“মধ্যম” কুমার: আজ্ঞে বলছিলাম যে steak এর সাথে একটু তরল পদার্থ ছিল। ওই হালকা সুরাপান।

“অ”কমল মিত্র: তো বাউন্ডুলের মতো মদ খেয়ে এসব বলতে লজ্জা করছে না তোমার! এইসব করার জন্যে তোমাকে ওখানে পাঠানো হয়েছে?
“মধ্যম” কুমার: কি বলছেন আপনি? আজকালকার যুগে একটু সুরাপান করা এমন কিচ্ছু ব্যাপার নয়।

“অ”কমল মিত্র: ওহ? এখন তোমার কাছ থেকে আমাকে যুগপযোগী ব্যাপার শিখতে হবে!
“মধ্যম” কুমার: সারাদিন ওই রুগী দেখে জীবনের finer tastes গুলো ভুলে গেছেন। তাই আপনার এসব বোঝার ক্ষমতাই নেই।

“অ”কমল মিত্র: বেশ! তাহলে এই রুগী দেখা রুক্ষ ডাক্তারের কাছে এলে কেন? যাও গিয়ে তোমার ঐ যুগোপযোগী finer taste ওয়ালা ডাক্তারের কাছেই যাও!
“মধ্যম” কুমার: তাহলে আপনি বলতে চাইছেন যে সুরাপান করলে আপনার কাছে ওষুধ পাওয়া যাবেনা?

“অ”কমল মিত্র: বলতে চাইছি না, বলছি।
“মধ্যম” কুমার: বেশ তাহলে আমার যতই শরীর খারাপ হোক। আপনার কাছে আর আমি আসব না।

ফোন কেটে গেল। এদিকে আর অবস্থা বেশ খারাপ। প্রতি মোচড়ে পেটের ভিতর সুনামি উঠছে।
তারপর দেখি আবার ফোন এলো ফ্রম “অ”কমল মিত্র।
কিন্তু এখানেই জীবনের সাথে সিনেমার সাদৃশ্য শেষ।

“অ”কমল মিত্র-রুপী পিতৃদেব হয়ে উঠলেন “সু”কমল মিত্র।
কন্ট্রোলড সুরাপানে যে তার আপত্তি নেই এবং কোনও ওষুধ খাবার আগে ডক্টরের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, সেটাই খুব শান্ত ভাবে বোঝালেন।

আমিও বুঝলাম। বাবা যতই কান ধরে টেনে আনুক কিংবা কঠোর বাক্যবাণে নিষ্পেষিত করুক,
দিনের শেষে সে কিন্তু ফাদার ইন্ডিয়া।

তাই বলছিলাম এই পঁয়ত্রিশ বছরের জীবনে দুর্গাপূজা নিয়ে অনেক স্মৃতিই আছে – কিছু মজাদার আর কিছু তখন ছিল বেদনাদায়ক(!) কিন্তু এখন ভাবলে দিব্যি হাসি ফুটে ওঠে।

একদিন আমার হনুমানটিও বড় হবে, নিজের স্বকীয়তা খুঁজে পাবে।
তবু দিনের শেষে এই বন্ধুটিকে আশাকরি মনে রাখবে।

আপনাদের জীবনেও যদি এরকম মজাদার কিছু ঘটে থাকে তাহলে নিচে কমেন্টে জানান।

ইতি,
সেই ছোট্ট হনুমানের বাবা।

পুনশ্চ: সুরা পান, ছোটো মাপেও, স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর!
পু-পুনশ্চ: আজকের দুনিয়ায় খ্যাতির চরম নিদর্শন হলো মিম (meme) রূপে ভাইরাল যাকে বলে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে কমল মিত্রের খ্যাতি এই যুগেও সমান ভাবে রয়েছে, থ্যাংকস টু মিম|

নিচে রইল সেই বিখ্যাত সিন “দেয়া-নেয়া” ছবি থেকে যার অনুপ্রেরণায় এই পুজোর গল্প এসেছে।