এবার ফেলুদা প্রশ্ন করল, ‘কোথাকার রাজার কথা বলছ তুমি রুকু?’ উত্তর এল – ‘আফ্রিকা।’

এই শব্দগুলো আমাদের ছোটবেলার সাথে জড়িয়ে। অধিকাংশ বাঙালির ডিটেক্টিভ গল্পের হাতে খড়ি হয়েছে ছোটবেলায় ফেলুদার সাথে। সঙ্গে শ্রীমান তোপসে আর জটায়ু।

ছোটবেলা কাটিয়ে ওঠার পর যখনই ফেলুদা পড়েছি, মনে হয়েছে এই ডিটেক্টিভ জীবনের আগে কি ঘটেছিল?
ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি শুরু করার আগের ও শেষ গল্পের পরের জীবন নিয়ে সত্যজিতবাবু খুব পরিষ্কার ভাবে কিছু লিখে যাননি।

ঠিক এই পরিপ্রেক্ষিতে কৌশিকের “তোপসের নোটবুক” বইটি তুলে ধরলো ফেলুদার জন্মবৃত্তান্ত ও আনুসঙ্গিক কাহিনী।
এই গল্পটি লেখা মূল কাহিনীর মতো, তোপসের চোখে, কলম নোটবুকে।

লেখক বেশ নিপুণভাবে ফেলুদা আর লালমোহন বাবুর পূর্বপুরুষদের আবির্ভাব ও তাদের ছোটবেলার সময়ে নানা ঘটনাকে তুলে ধরেছেন।
খানিকটা এই মূল চরিত্রগুলোর পরবর্তী জীবনের একে ওপরের পরিপূরক হয়ে ওঠারই পূর্বাভাস।

সত্যজিত রায়ের মূল কাহিনী থেকে কিছু চমকপ্রদ ঘটনাকে লেখক ফেলুদা আর লালমোহন বাবুর ছোটবেলার জীবনের মধ্যে তুলে ধরেছেন।

এই তোপসের জবানবন্দিতে ফেলুদার জীবন নিয়ে আমাদের মতন পাঠকদের মনে থাকা কিছু প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরার আইডিয়াটি তুখোড়।

নোটবুকের শেষটি ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেওয়ার গল্প নিয়ে। দুটি জটিল কেস কি ভাবে ফেলুদার জীবন ও তার চিন্তার ওপর ছায়া ফেলেছিল।

এইখানে যদিও আমার ধারণা যে, গল্পের শুরুতে লেখক ফেলুদার বাবা ও ঠাকুরদাকে নিয়ে তন্ত্র সাধনার যে সূত্র এঁকেছিলেন, সেটির প্রভাব ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে দেওয়ার কারণ হলে এই গল্পটি আরও “ডার্ক” হতো।

কিন্তু সব মিলিয়ে এই প্রচেষ্টা আমার বেশ লেগেছে।
অনেক বছর পরে রাত্রে শোবার সময় ফেলুদা সঙ্গে ছিল বইয়ের পাতায়।

দ্রষ্টব্যঃ আমি বইটি কিনেছি boichoi থেকে। লিংক রইলো। https://www.boichoi.com/topser_notebook

পুনশ্চঃ লেখকের সাথে আমার আলাপ শান্তিনিকেতনে এক দ্বিপরাহরিক ভোজনের সময়। কাশ্মীরি মটন আর গল্পের মধ্যে এই বইটি সমন্ধে জানতে পারি। ব্যাপারটা হাইলি সাসপিসিয়াস কি?